কলকাসুন্দা ফুলের ঔষধি গুণাগুণ ও উপকারিতা

 

কলকাসুন্দার বীজগুলি তিতা স্বাদ যুক্ত হয় । এটি হুপিং কফ, মূত্রবর্ধক হিসাবে, লিভারের অসুখে ব্যবহার করা হয়। পূর্ণবয়স্ক কলকাসুন্দা সাত ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে গড় উচ্চতা ভাঁটফুলের চেয়ে কিছু বেশি। পাঁচ ফুটের মতো হয়। কলকাসুন্দার কাণ্ডের রং গাঢ় সবুজ ও বেশ শক্ত। বড় কলকাসুন্দার কাণ্ডের বেড় ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। কাণ্ডের নিচের দিক থেকেই অসংখ্য ডালপালা বের হতে দেখা যায়।কলকাসুন্দার পাতার রং গাঢ় সবুজ। কঁচি পাতা সাদটে সবুজ। যৌগিক, বহপত্রক।

রক্ত দুষ্ট হলে :

এক তোলা পরিমাণ কাল্কাসুন্দার পাতার  রস মিসরীর চুর্ণ্সহ সকালে খেলে রক্তদোষ নিবারিতা হয়ে থাকে।

কাশি হলে :

এক তোলা পরিমাষ কালকাসুন্দার পাতার রস এক তোলা পরিমাষ মধুসহ নিয়মিত সেবন করলে পিত্তদোষ সেরে যায়।

কোষ্ঠবিদ্ধাতায় 

কালকাসুন্দার পাতার এক তোলা পরিমাণ গরম পানি সহ নিয়মিত সেবন করলে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয়।

এছাড়াও এই গাছের পাতা, ফুল, মূল অর্থ্যাৎ সমগ্র গাছ ঔষধার্থে ব্যবহার হয়। যেসব রোগে কালা কাসুন্দে ব্যবহার হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-অরুচী, গলাভাঙ্গা, গলা-বুক জ্বালা, পাতলা পায়খানা, হুপিং কাশি,মূর্ছা, ঘুসঘুসে জ্বর, হাঁপানী এবং শরীরের চাকা চাকা ফুলে উঠা এলার্জি। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পাতা সিদ্ধকরে অল্প পরিমাণ খেতে হয় অথবা পাতা এবং ফুলের রস ১-২ চা চামচ পরিমাণ খেতে হয়। আবার অনেক সময় মূলের ছাল বেঁটে খেতে হয়।


দাদমর্দন অতি প্রয়োজনীয় ঔষধি উদ্ভিদ

 দাদমর্দন (ইংরেজিcandle bush), (বৈজ্ঞানিক নামSenna alata) গুল্ম শ্রেণীর গাছ যা পৌষ্পিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে বা ঔষধি গাছ হিসেবে সংরক্ষণের প্রয়োজনে বিভিন্ন উদ্যানে রোপণ করা হয়। ময়লার ভাগাড় কিংবা পরিত্যক্ত স্থানে আপনা আপনিই জন্মে। গাছে কোনো সুমিষ্ট ফল হয় না, কাঠও মূল্যহীন।


আলংকারিক পুষ্পবৃক্ষের জন্যই বিভিন্ন উদ্যানে রোপণ করা হয়। এরা ক্যাশিয়া জাতের ফুল। ক্যাশিয়ার আরেকটি বুনো জাতের নাম কালকাসুন্দা। পথের ধারে ও পাহাড়ে অঢেল দেখা যায়। দাদমর্দন কখনো কখনো ডোবার ধার, খেতের মধ্যবর্তী আল এবং অনাবাদি স্থানেও জন্মায়।

দাদমর্দন দ্রুত বর্ধনশীল নরম-কাষ্ঠল গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত এক থেকে দুই মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড পুরু ও হলদেটে। ফুল ফোটার মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি। ডালের আগায় ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার খাড়া ডাঁটায় হলুদ রঙের ফুল নিচ থেকে ওপরের দিকে ফোটে।

সব ছাপিয়ে মানব দেহের জন্য এই গাছের রয়েছে নানাবিধ ঔষধি গুনাগুন। যে তথ্যগুলো হয়তো আপনার কাছে একদমই নতুন। যদিবা জেনে থাকেন তাও হয়তো যথেষ্ট নয়। তবে চলুন জেনে নেয়া যাক এই মূল্যবান গাছটির ঔষধি গুনাগুন সম্পর্কে।

ঔষধি গুনাগুন


  • শরীরে যে কোনো চর্মরোগ দেখা দিলে এই গাছ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।
  • দাদ ও পাঁচড়ায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার্য, দাদ দেখা দিলে দাদমর্দন পাতা থেতলে ২ চার দিন রস লাগালে উপশম হয়। ঝলসানো পাতাও উপযোগী।
  • নানাবিধ যৌনরোগের চিকিৎসায় দাদমর্দন গাছের পাতা, বাকল, শেকর সবকিছুই উপকারী।
  • বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড়ে এই গাছ সাধারণত টনিক হিসেবে কাজে করে।
  • শরীরে মেছতার দাগ বসে গেলে দাদমর্দন গাছের পাতলা বাকল তুলে গরম পানিতে সিদ্ধ করে মুখ ধৌত করে করলে অল্পতেই দাগ দূর হয়।
  • হাত পা বা শরীরের যে কোনো স্থানের (সংবেদনশীল স্থান ব্যাতিরেকে) চামড়া পুরে গেলে পরিস্কার পানি দিয়ে ধৌত করে দাদমর্দন পাতা বেটে পোরা স্থানে লাগালে ক্ষত শুকিয়ে যায়।

কারি পাতার যতো গুণ


অনেকেই খাবারে মসলা হিসেবে কারি পাতা ব্যবহার করেন। নিম পাতার মতো দেখতে এ পাতা মিষ্টি নিম কিংবা বারসুঙ্গা নামেও পরিচিত। এর পাতা ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক ধরনের রান্নায় ব্যবহার করা হয়। প্রায়শই ঝোল জাতীয় রান্নায় ব্যবহার করা হয় বলে সাধ

কারি পাতা শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, প্রোটিন, আয়রন, ফলিক এসিড, ভিটামিন সি, বি, এ, ই। এসব কারণে এ পাতা ব্যবহার করে খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়ায় এবং এর মাধ্যমে রূপচর্চাতেও বহু উপকার পাওয়া যায়। চকচকে সবুজ কারি পাতা কোলেস্টেরল এবং রক্তের গ্লুকোজের মাত্রার পরিমাণ ঠিক রাখে। লিভারের জন্য কারি পাতা বেশ উপকারি।

কারি পাতার অনেক স্বাস্থ্যের উপকারিতা আছে। তাদের কিছু কিছু নিচে উল্লেখ করা হল-

ওজন কমায়: খাবারে নিয়মিত কারিপাতার ব্যবহার ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ডায়রিয়া নিরাময়: পেট ঠান্ডা রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে কারি পাতা। নিয়মিত কারি পাতা খাওয়া শুরু করলে পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে ডায়ারিয়ার প্রকোপ কমাতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারিপাতাতে উপস্থিত কার্বেজল অ্যালকালয়েড নামক উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মর্নিং সিকনেস: মর্নিং সিকনেস এবং সর্দির হাত থেকেও কারি পাতা বাঁচায়। কারি পাতা খেলে বমিভাব কমে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়: চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্যও কারি পাতা খাওয়া খুব ভালো। কারি পাতায় উপস্থিত ভিটামিন এ-র প্রভাবে চোখের কর্নিয়া ভালো থাকে।

স্বাস্থ্যকর চুল: চুল পড়ার হাত থেকেও মুক্তি দেয় কারিপাতা। এতে উপস্থিত অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং ভিটামিন এ ও সি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। শুধু তাই নয় ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষাতেও কারি পাতার কোনও তুলনা হয় না।

ক্ষত নিরাময় করে: কারিপাতায় আছে উপকারী অ্যালকালয়েড। যে কোনও আঘাত বা জখম অনায়াসে নির্মূল করতে সাহায্য করে এটি। কারি পাতা সেদ্ধ পানি চুলকানি, অল্প পোড়া, ইত্যাদি সারাতে ভালো কাজ দেয়। কারি পাতা বাটা খুব ভালো অ্যান্টিসেপ্টিকের কাজ করে।

হার্ট ভালো রাখতে: কারিপাতা ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারিতে পরিপূরণ থাকায় এটি হার্টের পক্ষে খুব উপকারী। নিয়মিত কারিপাতার রস খেলে হার্টের রোগ প্রতিরোধ সহজ হয়।

অ্যানিমিয়া নিরাময়: ফলিক এবং আয়রনে ভরপুর এই প্রকৃতিক উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর লোহিত রক্ত কনিকার মাত্রাক বাড়িয়ে দেয়। এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে একটা খেজুরের সঙ্গে ২ টো কারি পাতা খেলে উপকার পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে : প্রতিদিন কারি পাতা খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক লেভেলের উপরে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এখানেই শেষ নয়, কারি পাতায় উপস্থিত ফাইবারও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে

গুলঞ্চ লতার উপকারিতা

 করোনা কালে বাড়ছে গুলঞ্চের কদর, ভেষজ এই পাতার উপকারিতা জানলে চমকে যাবেন।  


প্রাকৃতিক উপায়ে নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলুন। এর জন্য আদা, তুলসী, অশ্বগন্ধা, মধুর মতো উপকরণ তো রয়েছেই, তার পাশাপাশি আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রকৃতির ভাণ্ডারে মজুত। গুলঞ্চ অথবা গিলয়।পান পাতার মতো দেখতে প্রকৃতির এই উপাদানটিকে আয়ুর্বেদে বলা হয় ‘রসায়ন’। শোনা যায়, প্রাচীনকালে একে ‘অমৃত’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হত।কী কী গুণ রয়েছে এতে?

অনেকদিন ধরে চলা কাশি, হাঁপানি কিংবা অ্যাজমার উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে গুলঞ্চ। অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের চিকিৎসাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গুলঞ্চ। শোনা গিয়েছে, কোভিডের (COVID-19) কিছু উপসর্গ কমাতেও সাহায্য করে তা। তবে তার কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পর্যন্ত নেই।

২) গুলঞ্চের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান রয়েছে। যা শরীরের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকারক জীবাণুকে নাশ করে। অনেকদিন ধরে যাঁদের শরীরে চোরা জ্বর থাকে তাঁদের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী এই লতা। এর মধ্যে অ্যান্টিপাইরেটিক কার্যকারিতাও রয়েছে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে গুলঞ্চ দারুণ উপকারী। বিশেষ করে মেনোপজের পর। সেই সময় শরীরে নানা সমস্যা তৈরি হয়। গুলঞ্চের মধ্যে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকে। যা এই সময় খুবই কাজে দেয়। অস্টিওপোরোসিস অর্থাৎ হাড়ের ক্ষয় রুখতেও কার্যকরী এই পাতা।

৪) গুলঞ্চের মধ্যে হাইপোলিপিডেমিক ক্ষমতা রয়েছে। যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে এটি ডায়বিটিসে দারুণ কাজে দেয়। আবার ওজনও কমাতে সাহায্য করে। হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং লিভারকে ভাল রাখে।

৫) মানসিক দুঃশ্চিন্তা কমায় গুলঞ্চ।ফলে যাঁরা অবসাদে ভোগেন তাঁদের ক্ষেত্রে এই গুল্ম খুবই উপকারী। করোনা (Corona Virus) পরিস্থিতিতে অনেকেই মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। সুতরাং কঠিন এই সময়ে এই লতানো গাছটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। যদিও উচ্চমানের কোনও ক্লিনিক্যাল প্রমাণ এখনও পর্যন্ত নেই। কিন্তু আয়ুর্বেদে গুলঞ্চের কদর তুলসী বা অশ্বগন্ধার চাইতে কোনও অংশে কম নয়।


স্ট্রবেরি চাষ

স্ট্রবেরি টিসু চারা 

 শীতের দেশে স্ট্রবেরি ভালো হয়। গরমের দেশে গাছ হয় কিন্তু সহজে ফল হতে চায় না। কিন্তু গবেষকদের প্রচেষ্টায় এদেশে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু জাতের চাষ হচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় স্ট্রবেরি ফলানো সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জেলায় শীত বেশি পড়ে ও বেশিদিন থাকে সেসব এলাকায় স্ট্রবেরি চাষ করা যেতে পারে। পঞ্চগড়, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এমনকি পাবনা, নাটোরেও চাষ করা যায়।

নারকেল
নারকেল 

উপযুক্ত মাটি:

বেলে দোঁআশ ও মাটিতে প্রচুর জৈব সার প্রয়োগ করে স্ট্রবেরি ফলানো যায়। যেসব জমিতে পানি জমে সেখানে স্ট্রবেরি ফলানো যাবে না।

চারা তৈরি:

স্ট্রবেরির চারা এখনও তেমন সহজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে কাঙ্ক্ষিত চারা অবশ্যই বিশ্বস- কোনো নার্সারি থেকে সংগ্রহ করা দরকার। স্ট্রবেরি গাছগুলো গুল্ম ও লতা জাতীয় গাছ বলে গাছের গোড়া থেকে বেশ কিছু লম্বা লম্বা লতা মাটির উপর দিয়ে লতিয়ে যায়। মাটির সংস্পর্শে  লতার গিট  থেকে শিকড় গজায়। শিকড়যুক্ত গিট কেটে নিয়ে মাটিতে পুতে দিলে নতুন চারা তৈরি হবে। অর্ধেক মাটি অর্ধেক গোবর সার মিশিয়ে পলিব্যাগে ভরে একটি করে শিকড়যুক্ত গিটসহ লতা পুঁতে দিতে হয়। এক্ষেত্রে একটি গাছ থেকে ১৮-২০ টি চারা তৈরি করা সম্ভব।

ড্রই ফ্রুট

জমি তৈরি:

জমি ভালভাবে চাষ করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে অন-ত ৩০ সেন্টিমিটার গভীর করে জমি চাষ দিতে হবে। যেহেতু স্ট্রবেরি গাছের শিকড় মাটির উপর দিকে থাকে সেজন্য মাটি ঝুরঝুরা করে নির্ধারিত মাত্রায় সার মাটিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দতিে হবে।

 চারা রোপণ:

স্ট্রবেরির চারা মধ্যঅক্টোবর থেকে মধ্যডিসেম্বর পর্যন- রোপণ করা যায়। তবে নভেম্বর মাস স্ট্রবেরি চারা রোপণের জন্য সবচে ভাল। জমি তৈরির পর লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব হবে ৫০ সেন্টিমিটার ও প্রতি সারিতে ৩০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে স্ট্রবেরির চারা লাগাতে হয়। বৃষ্টি হলে ক্ষেত থেকে অতিরিক্ত পানি সরিয়ে দিতে হবে না হলে গাছ পঁচে যাবে।

ড্রাই তীণ ফল
সার প্রয়োগ ও সেচ: 

স্ট্রবেরির জন্য দরকার প্রচুর জৈব সার। এজন্য প্রতি একরে ৫০-৬০ কেজি ইউরিয়া সার, ৭০ কেজি টিএসপি সার এবং ৮০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। এসব সারকে সমান দুভাগে ভাগ করে একভাগ দিতে হয় ফুল আসার একমাস আগে এবং অন্য ভাগ দিতে হবে ফুল ফোটার সময়। ফল ধরা শুরু হলে ২-৩ দিন পর পরই সেচ দিতে হবে।

অন্যান্য যত্ন:

স্ট্রবেরি গাছে ফুল ধরাতে চাইলে বিশেষ যত্ন নিতে হবে। গাছ লাগানোর পর তার গোড়া থেকে প্রচুর রানার বা কচুর লতির মতো লতা বের হতে থাকে। এগুলো জমি ঢেকে ফেলে। এতে ফলন ভাল হয় না। এসব লতা যাতে কম বের হয় সেজন্য গাছের গোড়ায় খড় বা পলিথিন বিছিয়ে দিতে হয়। পলিথিন সিট ৩০ সেন্টিমিটার পর গোলাকার ছিদ্র করে স্ট্রবেরি গাছের ঝোপকে মুঠো করে ঢুকিয়ে দিতে হয়।  বেশি ফলন ও তাড়াতাড়ি ফল পেতে হরমোন গাছ পাতায় সেপ্র করা যেতে পারে ।

বারি মাল্টা ১

ফল সংগ্রহ ও বিক্রি:

কাঁচা ফল যখন হলদে বা লালচে রঙের হতে শুরু করে তখন বুঝা যাবে ফল পাকা শুরু হয়েছে। ফল পুরো পাকলে লাল হয়ে যায়। তবে বিক্রির জন্য ফল পুরো লাল হওয়ার দরকার নেই। সেক্ষেত্রে ফলগুলো শক্ত থাকা অবস'ায় তুলতে হবে। আর ফল তুলতে হবে বোটা সমেত। পরে কাগজের প্যাকেটে করে বাজারজাত করতে হবে। ফল তোলার পর ১০-১২ দিন পর্যন- ভালো থাকে। গড়ে প্রতি গাছে ১৫০-২০০ গ্রাম ফল ধরে। ফলটি এদেশে নতুন তাই ঝুঁকিও বেশি। তবুও মেধা ও বুদ্ধি প্রয়োগ করে স্ট্রবেরি চাষ একদিন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হবে সে কথা বলা যায়।


লবঙ্গ এর উপকারীতা

লবঙ্গ সিডলিং চারা 

 লবঙ্গ আমাদের অতিপরিচিত একটি মসলার নাম। রান্নার স্বাদ আনতে এর জুড়ি মেলা ভার। এশিয়া, আফ্রিকা, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ঝাল এবং মিষ্টি জাতীয় খাবারে এটি ব্যবহার করা হয়। আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে সিরিয়া, চীন, রোম, আফ্রিকাতে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে আধুনিক সময়ে সবার প্রথমে ইন্দোনেশিয়ার মালুকু দ্বীপপুঞ্জে এটি পাওয়া যায়। এরপর এখান থেকে ডাচ্‌ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরে লবঙ্গ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

চিরসবুজ লবঙ্গগাছের ফুলের কুঁড়িকেই লবঙ্গ বা লং বলা হয়। এই বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium aromaticum। রান্নার স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশেই এখনো ঔষধি উপাদান হিসেবে এর ব্যবহার করা হয়। লবঙ্গের ভেতর রয়েছে ‘ইউজেনল’ নামের একটি যৌগ, যা এর সুগন্ধের মূল কারণ। এটির ৭২ থেকে ৯০ শতাংশই ইউজেনলে ভরপুর। যৌগটি জীবাণু ও ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এতে আরও আছে ক্যারিওফিলিন নামের আরেকটি যৌগ যা একধরনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান।


পুষ্টি উপাদান

১ চামচ গুঁড়া লবঙ্গতে আছে ৬ ক্যালরি, ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ গ্রাম ফাইবার, দৈনন্দিন চাহিদার ৩ শতাংশ ভিটামিন সি, ২ শতাংশ ভিটামিন কে এবং ৫৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ। এতে কিছু পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন ই–ও আছে। এ ছাড়া আছে সামান্য ক্যারোটিন পিগম্যান্ট, যা ভিটামিন এ–তে পরিণত হয়।

দাঁতের নানা সমস্যার সমাধানে

শোনা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব তিন শতকে চীনে যখন হান রাজবংশের শাসন চলছে, তখন নাকি সেখানকার রাজ্যসভায় মুখে লবঙ্গ রেখে প্রবেশ করতে হতো। কারণ, এটি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে। আর আমাদের এই উপমহাদেশে দাঁতে সামান্য ব্যথা হলেই দাদি–নানিরা লবঙ্গ খেতে বলতেন। এতে নাকি ব্যথার উপশম হয়। নানা রকমের পরীক্ষা–নিরীক্ষা করার পর এর সত্যতা মিলেছে। ৪০ জনকে নিয়ে করা ২১ দিনের একটি গবেষণার জন্য সবাইকে লবঙ্গ, টি ট্রি ওয়েল আর তুলসীমিশ্রিত ভেষজ মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে বলা হয়। এই ৪০ জনের সবাই দাঁতের কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছিলেন। ২১ দিন পর দেখা যায়, দাঁতের সমস্যা, যেমন দুর্বল মাড়ি, দুর্গন্ধ, প্ল্যাক সবকিছুই প্রায় সেরে গেছে। এ জন্য দন্ত্য চিকিৎসকেরা প্রায়ই রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি লবঙ্গ চা বা আস্ত লবঙ্গ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

খাদ্যে বিষক্রিয়া সারাতে

অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অনেকেই মাঝেমধ্যে বিষক্রিয়ার সম্মুখীন হন। এ সময় লবঙ্গ খেলে দ্রুতই উপকার পাওয়া যায়। এতে বিদ্যমান ইউজেনল একটি শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এটি খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী ই কোলাই, স্টেপটোকক্কাস, স্ট্যাফিলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া মারতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

লবঙ্গে আছে নাইজেরিসিন নামের একটি যৌগ। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে বেশ কার্যকর। নাইজেরিসিনের জন্যই রক্ত থেকে শর্করা বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেওয়া, ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়ানো ও ইনসুলিন নিঃসৃত হওয়ার পরিমাণ বাড়ানোর মতো কাজ ভালোভাবে হয়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে লবঙ্গ খাওয়া যেতে পারে।

ক্যানসার প্রতিরোধে

লবঙ্গ অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের আধার। ইউজেনল একটি শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা ভিটামিন ই–এর চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি কার্যকরভাবে শরীরে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ফলে হওয়া অক্সিডেটিভ ক্ষতি থামাতে পারে। অক্সিডেটিভ ক্ষতির কারণে ক্যানসার হয়ে থাকে।

হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায়

লো বোন মাস বা হাড়ের কম ঘনত্ব এমন একটি অবস্থা, যা বয়স্কদের অস্টিওপরোসিস রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে, ইউজেনল হাড়ের ঘনত্ব বাড়িয়ে এটি মজবুত করে থাকে। এ ছাড়া লবঙ্গ ম্যাঙ্গানিজের উৎকৃষ্ট উৎস। ক্যালসিয়ামের মতো এটিও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী।

আলসার নিরাময়ে

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, স্ট্রেস বা জিনগত কারণে পেপটিক আলসার বা পাকস্থলীর আলসার হয়ে থাকে। লবঙ্গ দিয়ে তৈরি অ্যাসেনশিয়াল ওয়েল গ্যাসট্রিক মিউকাসের উৎপাদনে সাহায্য করে। এই মিউকাস পাকস্থলীকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করে।

যেভাবে খাওয়া যায়

মসলা হিসেবে রান্নায় তো দেওয়া যায়ই। লবঙ্গের অন্যান্য উপকারিতা ভালোভাবে পেতে প্রতিদিন অন্তত এক কাপ লবঙ্গের চা খেতে পারেন। বানানোর পদ্ধতি খুবই সহজ। এক কাপ গরম পানিতে ৫-৬টি লবঙ্গ জ্বাল দিলেই তৈরি লবঙ্গ চা। সর্দি–কাশিতেও এটি বেশ উপকারী। এ ছাড়া সামান্য লবণ দিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন। যদি না উচ্চ রক্তচাপের কোনো সমস্যা না থাকে।

সতর্কতা

লবঙ্গের ইউজেনলের গুণাগুণ অনস্বীকার্য। তবে মাথায় রাখবেন, এটি বেশ টক্সিক একটি উপাদান। অতিরিক্ত লবঙ্গ খেলে যকৃতের ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় খেতে হবে। ১৫ বছরের নিচের শিশুদের আলাদা করে লবঙ্গ বা এর চা থেকে দূরে রাখুন।

মাল্টা চাষ কিভাবে করবেন

মাল্টা বারি ১ কলাম চারা 

 মাল্টা সাইট্রাস পরিবারভুক্ত একটি বিদেশি ফল । কমলা আর বাতাবি লেবুর সংকরায়ণে এ ফলের সৃষ্টি । এর ইংরেজি নাম সুইট অরেঞ্জ। হিন্দিতে সান্তারা । অন্য ভাষায় ভিন্ন নাম । এর আদি উৎপত্তিস্থল ভিয়েতনাম, দক্ষিণ চীন এবং উত্তর-পশ্চিম ভারত। রোগির পথ্য হিসেবে মাল্টা হিতকর । খেতে সুস্বাদু । দারুণ গন্ধ । মাল্টায় পুষ্টিতে ভরপুর । পুষ্টিবিদদের মতে, এর প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে (আহারোপযোগী) ২০০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন এবং ভিটামিন সি আছে প্রায় ৫০ মিলিগ্রাম । অন্য পুষ্টি উপাদানের মধ্যে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি২ এবং খাদ্যশক্তি রয়েছে যথাক্রমে ১২ মিলিগ্রাম, ১ মিলিগ্রাম, ০.২ মিলিগ্রাম, ৪০ মিলিগ্রাম, ০.৮ মিলিগ্রাম, ০.১১৩ মিলিগ্রাম, ০.০৪৬ মিলিগ্রাম এবং ২০০ কিলোক্যালরি । এতে কিছু ঔষধিগুণও আছে । সর্দিজ্বর কমাতে মাল্টা বেশ উপকারী। এর খোসা দিয়ে প্রসাধনী তৈরি হয় । এছাড়া ওষুধ শিল্পেও ব্যবহার হয় । বিশ্বে ফলটি বেশ জনপ্রিয়। তেমনি এদেশেও। কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, কমলা লেবুর তুলনায় এর অভিযোজন ক্ষমতা বেশি । তাই চাষের জন্য পাহাড়ি এলাকা উৎকৃষ্ট । তবে হালকা লবণ মাটিতে এর মিষ্টতা এবং ফলন ভালো । এমনি প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় পিরোজপুর সদরের বেশ কয়টি গ্রামে । ওখানে ছোট-বড় দুই শতাধিক বাগান রয়েছে । ভরা মৌসুমে থোকায় থোকায় ধরা ফলগুলো দেখলে কার না ভালো লাগে! শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, ফলগুলো প্রচুর মিষ্টি এবং রসালো । এসব গুণের কথা শুনে দক্ষিণের অন্য জেলাগুলোতেও নতুন নতুন বাগান স্থাপন হচ্ছে । এভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে । তাই বলতেই হয়; মাটি, পানি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দক্ষিণাঞ্চল মাল্টা চাষের বিরাট সম্ভাবনাময় ।

 জলবায়ু

শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু মাল্টা চাষের জন্য উত্তম । বায়ুর আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাত ফলের গুণাগুণকে প্রভাবিত করে । অতি বৃষ্টিতে ফল বেশি রসালো হয় । এছাড়া খোসা পাতলার পাশাপাশি গুণগতমান হয় নিম্ন । রোগ-পোকার আক্রমণ বেড়ে যায় । তবে শুষ্ক আবহাওয়া ফলের স্বাদ ও মানকে করে উন্নত ।

 মাটি

মাল্টা প্রায় সব ধরনের মাটিতে জন্মে । তবে ছায়া পড়ে না এমন সুনিষ্কাশিত উর্বর, মধ্যম থেকে হালকা দো-আঁশ মাটি চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো । মাটির অম্লত্ব ৫.৫ থেকে ৬.৫ হওয়া উত্তম । মাল্টাগাছ লবণ এবং উচ্চ তাপমাত্রা সংবেদনশীল । জলাবদ্ধতার সহ্যক্ষমতা নেই ।

 জাত

দেশি বিদেশি বিভিন্ন জাত রয়েছে । তবে এদেশে চাষ উপযোগী জাতের মধ্যে বারি মাল্টা-১ অন্যতম । বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এ জাতটি উচ্চফলনশীল । গাছের ডালপালা ছড়ানো এবং ঝোপানো থাকে । মধ্য ফাল্গুন (মার্চ) থেকে মধ্য চৈত্রে (এপ্রিল) ফুল আসে । ফল পাকে কার্তিক মাসে । ফল দেখতে সবুজ । তবে পরিপক্ব অবস্থায় কিছুদিন রেখে দিলে কমলা রঙ ধারণ করে । ফলের নিচে ছোট গোলাকার চিহ্ন থাকে । প্রতিটির ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম । ফলের শাসের রঙ হালকা হলুদ । গাছপ্রতি ফল ধরে ৩০০ থেকে ৪০০ । সে হিসেবে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন প্রায় ২০ টন । বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাত উদ্ভাবন করেছে । নাম এফটিআইপি বাউ মাল্টা-১ । প্রতিটি ফলের ওজন ১৭০ হতে ২০০ গ্রাম । মিষ্টতা ১৭-২১ টি.এস.এস.। গাছ বামনাকৃতি । বিচি কম হয় । ফল রসালো ও মিষ্টি । মার্চএপ্রিল মাসে ফুল আসে । সেপ্টেম্বর অক্টোবরে ফল পাকে ।

 কলম

বীজ ও অঙ্গজ উভয় পদ্ধতিতে মাল্টার বংশবিস্তার হয় । তবে মাতৃগুণ বজায় রাখা, দ্রুত ফল ধরা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং অধিক ফলন পেতে অঙ্গজ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে । জোড় কলম (গ্রাফটিং) ও চোখ কলমের (বাডিং) মাধ্যমে চারা উৎপাদন করা যায় । জোড় কলমের জন্য রুটস্টক (আদি জোড়) নির্বাচন করতে হয় । এক্ষেত্রে বাতাবি লেবুর চারা ব্যবহার উত্তম । এরপর মাতৃগাছ হতে সায়ন (উপজোড়) সংগ্রহ করে রুটস্টকের ওপর স্থাপন করে গ্রাফটিং তৈরি করা হয় । আদি জোড়ের জন্য এক থেকে দেড় বছরের সুস্থ, সতেজ এবং সোজা চারা বেছে নিতে হবে । সায়নে অবশ্যই কমপক্ষে দুইটি চোখসহ ২/৩ ইঞ্চি লম্বা থাকা চাই । এছাড়া ডালের বয়স যেন ৮/৯ মাস হয় । সাধারণত ১০-১২ দিন পর সংযোগস্থলে জোড়া লাগে । তখন সায়নের সুপ্ত কুঁড়ি থেকে পাতা বের হয় । একাধিক ডাল বের হলে ভালোটি রেখে বাকিগুলো কেটে দিতে হবে । কলমের নিচের অংশে কোনো কুঁড়ি বা ডাল যেন না থাকে । মধ্য বৈশাখ হতে মধ্য ভাদ্র (মে-আগস্ট)  গ্রাফটিং করার উপযুক্ত সময় ।

চারা প্রাপ্তিস্থান

চারা অবশ্যই মানসম্মত হওয়া চাই । চাষাবাদের ক্ষেত্রে অন্য সব কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হলে ও জাত নির্বাচন  ভুল হলে কাক্সিক্ষত ফলন হবে না । তাই নিশ্চিত হয়েই চারা ব্যবহার করতে হবে । এক্ষেত্রে  বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে সংগ্রহ করা উত্তম । 


 রোপণ পদ্ধতি

ষড়ভুজ এবং বর্গাকার উভয় পদ্ধতিতে চারা লাগানো যায় । সারা বছরই রোপণ করা যেতে পারে । তবে বর্ষা মৌসুমে উত্তম । চারা লাগানোর আগে মাদা তৈরি করে নিতে হয় । এক্ষেত্রে গর্তের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা (গভীরতা) হবে ৭৫ সেন্টিমিটার (৩০ ইঞ্চি) করে । গর্তপ্রতি ১৫ কেজি পচা গোবর কিংবা অন্য জৈব সার, সেই সাথে ৫ কেজি কাঠের ছাই এবং রাসায়নিক সার হিসেবে টিএসপি ২৫০ গ্রাম, এমওপি ২৫০ গ্রাম, বরিক এসিড ৫ গ্রাম ও চুন দিতে হবে ৫০০ গ্রাম হারে । সম্পূর্ণ সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরে দিতে হবে । ১৫ থেকে ২০ দিন পর গর্তের মাঝখানে সোজা করে চারা রোপণ করতে হবে । গাছ লাগানোর পর চারাটি শক্ত খুঁটি সাথে সামান্য ঢিলে করে বেঁধে দিতে হবে, যেন ঝড়ে হেলে না পড়ে ।

 সার ব্যবস্থাপনা

গাছের বৃদ্ধি এবং কাক্সিক্ষত ফল ধারণের জন্য বছরে তিন বার সার দেয়া দরকার । বর্ষার আগে মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য চৈত্রে এবং মধ্য বৈশাখ হতে মধ্য জ্যৈষ্ঠে । বর্ষার পরে মধ্য ভাদ্র থেকে মধ্য আশি^ন মাসে । দুপুরবেলায় মাটিতে গাছের ছায়া যতটুকু পড়ে ততোটুকু স্থানে ৬ ইঞ্চি গভীর করে ভালোভাবে কুপিয়ে সার দেয়া উত্তম । অথবা গাছের গোড়া হতে ১ ফুট বাদ দিয়ে এরপর ৪ ফুট পরিমাণ জমি বৃত্তাকারে অনুরূপভাবে কুপিয়ে দিলেও হবে । সার প্রয়োগের পর সেচ দিতে হয় । গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাবারের চাহিদাও বৃদ্ধি পায় । তাই বয়সভেদে যে পরিমাণ জৈব ও অজৈব সার দেয়া প্রয়োজন তা হলো-

আগাছা পরিষ্কার

আগাছা খাবারে ভাগ বসায় । ক্ষতিকর পোকার আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার হয় । তাই বাগান সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে । গাছের গোড়া হতে একটু দূরে শুকনো লতাপাতা, খড়, কুটা বিছিয়ে মালচিংয়ের ব্যবস্থা করলে ভালো হয় । এতে আগাছা জন্মাবে না । মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকবে ।

 সেচ ও নিষ্কাশন

 খাদ্য তৈরির জন্য পানি গাছের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান । সেজন্য শীত মৌসুমে এবং অন্য সময় খরা দেখা দিলে গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে । তেমনি বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধতা যেন না হয়, সেজন্য দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে ।

 ফল পাতলাকরণ

কোনো কোনো কলমের গাছে প্রথম বছরে ফল আসতে পারে । তবে পরপর দুই বছর ফুল ভেঙে দেয়া উত্তম । এতে গাছের কা- মোটা হয় । ফলের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় । পরিণত বয়সে প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরে । পুরো ফল রাখা হলে এর আকার ও গুণগতমান হ্রাস পায় । তাই প্রতি বোঁটায় দুইটি রেখে অবশিষ্ট ফল ছোট (মার্বেল আকৃতি) অবস্থায় ছিঁড়ে ফেলতে হবে ।

 ব্যাগিং

ব্যাগিং ফলের জন্য আশীর্বাদ । চীনে উৎপাদিত এ ব্যাগ এখন আমাদের দেশেও পাওয়া যাচ্ছে । প্রতিটির মূল্য আড়াই থেকে তিন টাকা । ব্যাগিং করলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হয় না । তাই ফল পরিপক্বতার আগেই ছত্রাকনাশক (টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মিলিলিটার/১ লিটার) প্রয়োগ করে ব্যাগিং করতে হবে । এর কিছু বাড়তি সুবিধাও আছে । যেমন-পাতার ঘর্ষণ থেকে ফলকে রক্ষা করে । তীব্র সূর্যকিরণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বিভিন্ন পাখি এবং বাঁদুরের উপদ্রব হয় না । ফল নিরাপদ হয় । পরিবেশ ভালো থাকে । বাজার মূল্য পাওয়া যায় বেশি । এ ব্যাগ দুই-তিন বছর ব্যবহার করা যায় । দেশীয় পদ্ধতিতে পলিথিন, কাপড় কিংবা বাটার পেপার দিয়ে ব্যাগিং করা যেতে পারে ।

বালাই ব্যবস্থাপনা

মাল্টা ফসলে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় এবং রোগের আক্রমণ হতে পারে। পোকার মধ্যে সাইলিড সবচেয়ে ক্ষতিকর । এছাড়া রয়েছে পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকা, খোসা পোকা, উঁইপোকা । রোগগুলো হলো আগামরা রোগ, গ্রিনিং, ক্যাংকার এবং আঠাঝড়া ।

সাইলিড পোকা : পোকার বাচ্চা গাছের পাতা, পাতার  বোঁটা, কচি ডগা এবং ফলের রস চুষে খায় । এতে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে । রস চোষার সময় এরা গাছের রসের মধ্যে  গ্রিনিং রোগের ভাইরাস ছড়ায় । সেইসাথে মিষ্টি আঠালো পদার্থ নির্গত করে । প্রতিকার হিসেবে পোকাসহ আক্রান্ত পাতা বা ডাল অপসারণ করতে হবে । মে মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে একবার ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক যেমনÑঅ্যাডমায়ার বা ফেনিট্রথিয়ন জাতীয় কীটনাশক যেমন-সুমিথিয়ন ২ মিলিলিটার/লিটার পানিতে মিশিয়ে মাল্টা গাছে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে । তাহলে ডিম ও পোকা থাকলে ধ্বংস হবে । গ্রিনিং রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে ।

পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকা : এ পোকা ছোট অবস্থায় (কীড়া) মাল্টা পাতায় আক্রমণ করে । এরা রাতের বেলা গাছের কচি পাতায় গর্ত খুঁড়ে আঁকা বাঁকা দাগের সৃষ্টি করে । আক্রান্ত পাতা কুঁকড়ে যায় । প্রতিকার হিসেবে আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলতে হয় । তামাক নির্যাস ও সাবান গোলা পানি স্প্রে করা যেতে পারে । আক্রমণ বেশি হলে ইটাপ ৫০ এসপি ১.২০ গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে ।

ফলের মাছি পোকা : এ পোকার আক্রমণে ফল নষ্ট হয়ে যায় । প্রতিকার হিসেবে সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা দমন করা সম্ভব ।

মাকড় : এক ধরনের ক্ষুদ্র মাকড়ের কারণে গাছের পাতা নিচের দিকে কুঁকড়ে যায় । প্রতিকার হিসেবে ভার্টিম্যাক অথবা ইকোম্যাক ১ মিলিলিটার হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে পাতার নিচের ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে ।

 আগামরা রোগ : এ রোগ দেখা দিলে পুরো গাছ বা গাছের ডাল আগা থেকে শুরু করে ক্রমে নিচের দিকে মরে যায় । রোগটি ছত্রাকের আক্রমণে হয় । প্রতিকার হিসেবে কিছুটা সুস্থ অংশসহ আক্রান্ত স্থান কেটে পুড়ে ফেলা এবং কর্তিত অংশে বোর্দোমিশ্রণ বা নোইন (ছত্রাকনাশক) ২ গ্রাম/লিটার অথবা কুপ্রাভিট ৭ গ্রাম/ লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ।

গ্রিনিং রোগ : এ রোগে পাতার মধ্যশিরা হলদে হয়ে যায় এবং শেষ পর্যায়ে হলুদাভ রঙ ধারণ করে । শিরা উপশিরাগুলো ক্রমশ গাঢ় সবুজ হতে থাকে, শিরা দুর্বল ও পাতা কুঁকড়ে যায় । এটি ভাইরাসজনিত রোগ । সাইলিড পোকা এর বাহক । তাই পোকা দমন (ব্যবস্থাপনা আগে দেয়া আছে) করতে হবে । আক্রান্ত হলে অন্য গাছে রোগ যেন না ছড়ায় সেজন্য গাছ উঠিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে ।

ফল সংগ্রহ

পরিপক্ব অবস্থায় মাল্টা সংগ্রহ করতে হয় । সংগ্রহের সময় ফল যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে । ফলের আকার অনুযায়ী গ্রেডিং করা উত্তম । পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে প্যাকেট করে বাজারজাত করতে হবে ।

‘ফল খাই বল পাই’ এ কথা সবাই জানি । তারপরও প্রয়োজনমতো খাওয়া হয় না । অসচেতনতা আর প্রাপ্তির অভাবই এর কারণ । তবে পর্যাপ্ত সুযোগ আছে । শুধু প্রয়োজন ইচ্ছেশক্তি এবং পরিকল্পনা । আপনার পছন্দমতো যে কোনো ফল বাগান তৈরি করতে পারেন । চাষাবাদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পাশে আছেন উপজেলা কৃষি অফিসার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা । তাই আসুন, প্রতিটি বসতবাড়িতে অন্য ফলের পাশাপাশি  দুই-চারটি হলেও মাল্টার গাছ লাগাই । এ ব্যাপারে অপরকেও  করি উৎসাহিত ।

আলুবোখারা চাষ পদ্ধতি

আলুবোখারা কলাম চারা 

 আলুবোখারা (Prunus domestica) বাংলাদেশের স্বল্প ব্যবহৃত একটি উচ্চমূল্যের মসলা ফসল। সপ্তদশ শতাব্দীতে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে আলুবোখারার উন্নত জাতগুলো উদ্ভাবিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় শীত প্রধান ও অবউষ্ণ এলাকায় বিশেষ করে মধ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপ তারপর উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, চীন, ভারত, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকায় ব্যাপকভাবে আলুবোখারার আবাদ হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন- ইংরেজিতে প্লাম, গেজ, গার্ডেন প্লাম, প্রুন, প্রুন প্লাম, বাংলাদেশ ও ভারতে আলুবোখারা এসব নামে ডাকা হয়।

      আশ্চর্য রকমের সুস্বাদু ও রসালো এ ফল ফ্রেশ খাওয়া চলে অথবা চিনি, মরিচ ও সরিষার তেল সহযোগে চাটনির মতো করে অথবা বিভিন্ন উপাদান যোগ করে রান্না করে খাওয়া হয়। আলুবোখারা দিয়ে জ্যাম, জেলি, চাটনি, কেক, আচার প্রভৃতি তৈরি করা যায়। মধ্য ইংল্যান্ডে সিডার জাতীয় অ্যালকোহলিক বেভারেজ যা প্লাম জাবকাস নামে পরিচিত তা আলুবোখারা থেকেই প্রস্তুত করা হয়। শুকনা আলুবোখারা (যা প্রুন নামে পরিচিত) মিষ্টি, রসালো এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এতে খাদ্য শক্তি কম (৪৬ কি.ক্যাল.) থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপযোগী। এতে যথেষ্ট পরিমাণে পটাসিয়াম, ফ্লোরাইড ও লৌহ রয়েছে যা দেহকোষের সুরক্ষার জন্য উপযোগী। এর অন্যান্য ভিটামিনগুলো শ্বেতসার মেটাবলিজমে ও হাড়ের গঠনে ফসফরাস এবং ভিটামিনকে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে ও বৃদ্ধদের আলঝেইমা রোগ প্রতিরোধ করে।
 
উৎপাদন প্রযুক্তি
আলুবোখারা বা রোজেসি পরিবারভুক্ত একটি ফল জাতীয় মসলা ফসল। অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক জাতগুলোর বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এবং ফল বিভিন্ন সময়ে ধরে থাকে। যেমন- তাইওয়ানে জানুয়ারিতে, যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল মাসে ফুল ফোটে। এর ফল মধ্যমাকৃতির ১-৩ ইঞ্চি পর্যন্ত ব্যাসযুক্ত, গোলাকার ও ওভাল হয়।
 
আবহাওয়া ও মাটি
সাধারণত শীতপ্রধান ও অবউষ্ণ আবহাওয়া আলুবোখারা চাষের জন্য উপযোগী। তার ০-৭.২ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা এর জন্য সবচেয়ে উপযোগী। অবউষ্ণ এলাকার জন্য শীতকালে শৈত্যায়ন হয়ে শীতের পর ফুল আসে এবং ফলধারণ করে। আলুবোখারা রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ও সুনিষ্কাশিত উর্বর বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো হয়। পাহাড়ের ঢালে ও পাহাড়ের উপরে ভালো বায়ু চলাচল উপযোগী ও পর্যাপ্ত সূর্যালোকে এর উৎপাদন ভালো হয়।
 
জমি তৈরি
যে জমিতে অন্য ফসল ভালো হয় না সে জমি আলুবোখারা চাষের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে। বাগান আকারে চাষ করতে হলে নির্বাাচিত জমি ভালো করে চাষ ও মই দিয়ে সমতল এবং আগাছামুক্ত করে দিতে হবে। পাহাড়ি এলাকা, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধার বা পুকুর পাড়ে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে জমিতে চাষ না দিয়ে শুধু পারিষ্কার করে নিলেই চলবে।
 
জাত : বারি আলুবোখারা-১
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবিত বারি আলুবোখারা-১ জাতটি ২০১৩-১৪ সনে অনুমোদন করা হয়। এদেশের মাটিতে ভালো ফলন দিচ্ছে। এর গাছ মাঝারি আকারের, ৫-৬ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট হয়ে থাকে। তবে শাখা ছাটাই না করলে এর গাছ ১২ মিটার লম্বা ও ১০ মিটার পর্যন্ত বিস্তার লাভ করতে পারে। ফেব্রুয়ারি মাসে এ জাতটিতে ফুল আসে আর জুন মাসে ফল পাকে। আকর্ষণীয় উজ্জ¦ল লাল রঙের মাঝারি আকারের (৮.৬৬ গ্রাম/ফল) সুগন্ধিযুক্ত ফল। এর ফলের খাদ্যাংশ বেশি (৯৭%) এবং মাঝারি টক মিষ্টি স্বাদের (টিএসএস ১১.০)। গাছে প্রচুর ফল ধরে  (গড়ে ১৪০০টি), ১১.৩ কেজি বা হেক্টরপ্রতি ৭.০৩ টন। এ জাতটিতে রোগ বালাই এর আক্রমণ অনেক কম।
 
রোপণ পদ্ধতি ও সময়
সমতল ভূমিতে আলুবোখারা চারা সাধারণত বর্গাকার বা ষড়ভূজী প্রণালিতে লাগানো যায়। কিন্তু উঁচু নিচু পাহাড়ে কণ্টুর রোপণ প্রণালি অনুসরণ করতে হবে। মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত আলুবোখারা চারা রোপণ করা যায়।
 
মাদা তৈরি
চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে উভয় দিকে ৩-৪ মিটার দূরত্বে ৬০x৬০x৬০ সেন্টিমিটার মাপের গর্ত করতে হবে। প্রতি গর্তে ১৫-২০ কেজি কম্পোস্ট বা পচা গোবর, ৩-৫ কেজি ছাই, ২০০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৫০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করে গর্তের উপরের মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। গর্ত ভরাট করার ১০-১৫ দিন পর চারা রোপণ করতে হবে।
 
চারা-কলম রোপণ ও পরিচর্যা
এক বছর বয়সী সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত চারা-কলম রোপণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। গর্তে সার প্রয়োগের ১০-১৫ দিন পর নির্বাচিত চারা-কলমটি গর্তের মাঝখানে সোজাভাবে লাগিয়ে তারপর চারদিকে মাটি দিয়ে চারার গোড়ায় মাটি সামান্য চেপে দিতে হবে। রোপণের পরপর খুঁটি দিয়ে চারা-কলমটি খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হবে। অতঃপর প্রয়োজনমতো পানি ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
 
গাছের সার প্রয়োগ
সারের নাম    গাছের বয়স
                      ১-৩ বছর    ৪-৭ বছর    ৮-১০ বছর   ১০ বছর এর ঊর্ধ্বে
গোবর/কম্পোস্ট  ১০-১৫         ১৫-২০         ২০-২৫       ২৫-৩০
ইউরিয়া(গ্রাম)    ২০০-৩০০    ৩০০-৪০০    ৫০০-৮০০    ১০০০
টিএসপি (গ্রাম)    ১৫০-২০০    ২০০-৩০০    ৩০০-৪০০    ৫০০
এমওপি (গ্রাম)    ১৫০-২০০    ২০০-৩০০    ৩০০-৪০০    ৫০০
 
আশানুরূপ গুণগতমানসম্পন্ন ফল পেতে হলে আলুবোখারা নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করা আবশ্যক। গাছের বৃদ্ধির সাথে সারের পরিমাণ বাড়বে। প্রতিটি গাছের জন্য সারের পরিমাণ হবে।
 
সবটুকু সার ৩ ভাগ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ ও ভাদ্র-আশ্বিন ও মাঘ-ফাগুন মাসে প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিবার সার দেয়ার পর প্রয়োজনে পানি দিতে হবে।
 
আগাছা দমন
গাছের গোড়া নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাহাড়ের ঢালে, বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধার বা পুকুর পাড়ে লাগানো গাছের গোড়ায় আগাছা কেটে পরিষ্কার রাখতে হবে।
 
সেচ প্রয়োগ
চারা রোপণের প্রথমদিকে প্রয়োজনমতো সেচ দেয়া দরকার। খরা বা শুকনো মৌসুমে পানি সেচ দিলে ফল ঝরা কমে, ফলন বৃদ্ধি পায় এবং ফলের আকার ও আন্যান্য গুণাগুণ ভালো হয়।
 
ডাল ছাঁটাইকরণ
চারা অবস্থায় গাছকে সুন্দর কাঠামো দেয়ার জন্য অবাঞ্ছিত ও অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই করে রাখতে হবে। ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে গাছের মরা, রোগাক্রান্ত ও পোকামাকড় আক্রান্ত ডালপালা কেটে পরিষ্কার করতে হবে।
 
রোগবালাই ব্যবস্থাপনা
বারি আলুবোখারা-১ এ রোগ বালাই তেমন দেখা যায়নি। শুধুমাত্র পাতার দাগ বা লিফ স্পট রোগ দেখা গেছে। রিডোমিল বা এ জাতীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করেই তা দমন করা যায়।
 
ফসল সংগ্রহ ও ফলন
আলুবোখারার ফল নন-ক্লাইমেক্টরিক হওয়ায় গাছ থেকেই ভালোভাবে পাকার পর তা সংগ্রহ করতে হয়। আলুবোখারার ফল ভালোভাবে পেকে গাঢ় লাল বা হালকা খয়েরি রঙ ধারণ করলে এবং ফল নরম হলেই সংগ্রহ করা উচিত। হালকা লাল বা হলুদ আবস্থায় সংগ্রহ করা হলে তা অত্যন্ত টক বা হালকা তেতো স্বাদেরও হতে পারে। বারি আলুবোখারা -১ এর বা এ জাতের প্রতি পূর্ণবয়স্ক (১৫-২০ বছর) গাছে দেড় থেকে তিন হাজার পর্যন্ত ফল পাওয়া যেতে পারে। হেক্টরপ্রতি ৭ থেকে ১০ টন সতেজ পাকা ফল পাওয়া যায়।

জয়তুন এর উপকারিতা

জয়তুন কলাম চারা 

 বৈজ্ঞানিক নাম Olea europaea একে সাধারণত জয়তুন (যয়তুন) ফল বলা হয়। যুদ্ধে জয়তুনের পাতাকে শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবং শরীরে শান্তির দূত হিসেবে জয়তুনের তেল ব্যবহার করা হয়। আরবিতে জয়তুন কে তরল সোনা নামে ডাকা হয়। জয়তুন ফল গাছ ৮ থেকে ১০মিটার উচ্চতায় লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতা উচ্চতায় ৪ থেকে ১০ সেমি. লম্বা এবং প্রশস্ততায় ১ থেকে ৩ সেমি. প্রশস্ত হয়ে থাকে। জয়তুন ফল আকারে বেশ ছোট হয়। সাধারণত ১ থেকে ২.৫ সেমি. লম্বা হয়ে থাকে। এই গাছের ফলন ভূমধ্য সাগর অঞ্চলে বেশি। আর জয়তুন তেলের কারণে আর মান বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে আবার জলপাই আর জয়তুন ফলকে একসাথে মিলিয়ে ফেলে। কিন্তু জলপাই এর মধ্যে যে কালো জাত জলপাই আছে তা থেকে এই জয়তুন তেল তৈরি হয়। তাই জয়তুন আর জলপাই দেখতে একই রকম হলেও একই রকম না। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআনে এই যয়তুন ফলের কথা বলা হয়ে।

আসুন জেনে নেই জয়তুন ফলের উপকারিতাঃ

 ১।জয়তুন তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই। যাদের ভিটামিন ই এর অভাব রয়েছে তারা জয়তুন তেল খেতে পারেন।

২।জয়তুনের তেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস যা আমাদের রক্তে কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। রক্তে কোলেস্টেরল দূর করে আমাদের রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে জয়তুন তেল খেতে হবে।

৩।জয়তুন তেল রক্তশূন্যতা রোধে বিশেষভাবে কাজ করে। সাধারণত মেয়েদের এই সমস্যাটা বেশি দেখা দেয়। নিয়মিত জয়তুন তেল সেবন করলে তাড়াতাড়ি ফলাফল পাওয়া যায়।

৪।বিভিন্ন ধরণের টিউমার, রগ ফুলে যাওয়া, কোষ্টকাঠিন্যের সমস্যা, দাঁতের ক্যাভিটি এমনকি ক্যান্সারের রোগ সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে জয়তুন তেল ব্যবহার করতে পারেন।

৫।গর্ভবতী মায়েরা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত জয়তুন তেল দিয়ে শরীরে মালিশ করতে পারেন এতে বাচ্চাদের জন্মের দাগ পড়েনা। এছাড়া বাচ্চা জন্মদানের পর মেয়েদের ত্বকে সাদা গাদের ছাপ পড়ে যায়। জয়তুন তেল মালিশের ফলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৬।চুলের সৌন্দর্য বর্ধনে জয়তুন তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। জয়তুন তেল হাতের তালুতে নিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন ও বৃদ্ধি পায়। এছাড়া চুল ও দাঁড়িয়ে জয়তুন তেল মাখলে চুল ও দাড়ি পাকার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যায়।

৭।আজকাল বয়স বাড়ার আগে বয়সের ছাপ পড়ে যায় এবং বয়সেএ তুলনায় বয়সের তারতম্য বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে আপনি মুখের ত্বকে জয়তুন তেল ব্যবহার করতে পারেন।আপনার বয়সের ছাপ কমাবে।

৮।জয়তুন তেল শুধু শরীরের জন্যে না রন্ধন প্রণালীতে বিশেষ তেল হিসেবে ও ব্যবহার করা হয়। তবে জয়তুন তেলের দাম সচরাচর অনেক বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া চিকিৎসাশাস্ত্রে এই জয়তুন তেল ব্যবহার করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) ও জয়তুন তেল ব্যবহার করতেন। তাই এই তেলের আলাদা গুণাগুণ রয়েছে।

৯।প্রতিদিন খাবারে যদি ২চামচ করে জয়তুন তেল খেলে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমায় আর উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায়। এছাড়া নিয়মিত খেলে ক্লোম ক্যান্সারের ঝুঁকি ও কমে যায়। গোসলের সময় ১ থেকে ৪চামচ গোসলের পানিতে জয়তুন তেল দিলে শরীরের শীথিলতা পাওয়া যায়। এছাড়াও ব্যাথানাশক হিসেবে জয়তুন তেল আরো বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।

১০।জয়তুন ফলে রয়েছে অলেইক এসিড যা আমাদের হার্টকে ভালো রাখে এবং হার্টের সুরক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এছাড়া বৈবাহিত জীবন যাপনে স্ত্রী পুরুষ ২জনের যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি ও প্রজনন প্রক্রিয়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে জয়তুম তেল। তাছাড়া মেয়েদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে জয়তুন তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে।

উপরোক্ত পদ্ধতিতে আমরা জয়তুন তেলের বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারলাম। যেহেতু জয়তুন তেলের দাম বেশি চেষ্টা করন জয়তুন তেল পরিমাণ মতো না খেতে পারলে ও সীমিত আকারে খাওয়ার। এতে শারীরিক বিভিন্ন উপকারিতা লাভ করা যায়


কমলা খাওয়ার উপকারিতা

কমলা দ্রার্জিলিং কলাম চারা 

 শীতে কমলা খাওয়ার উপকারিতা

ভিটামিন 'সি' শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।  শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই ভিটামিন খুবই জরুরি।

 কমলা ভিটামিন সিতে ভরপুর।  এই ফল দেখতে যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি খেতেও সুস্বাদু। স্বাদে অনন্য হওয়ায় এটি অনেকেরই পছন্দের ফল।

এ সময় কমলা খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। আসুন জেনে নিই শীতে কমলা কেন খাবেন-

১. কমলায় কোনো ধরনের ফ্যাট ও সোডিয়াম থাকে না। সকালের নাস্তায় অন্যান্য খাবারে সঙ্গে কমলা খেতে পারেন। কমলায় ফাইবার থাকায় এটি দীর্ঘ সময় পেট পূর্ণ রাখতে সহায়তা করে। সে হিসেবে এটি ওজন কমাতেও বেশ উপকারী।

২. কমলায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি থাকায় এটি হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে।

৩. ত্বক ও চুল ভালো রাখে কমলা। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সির প্রায় ১২০ শতাংশ এই ফল থেকে পাওয়া যায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রির র‌্যাডিক্যালগুলোর কারণে ত্বকের ক্ষতি রোধ করে। কমলা খোসা ফেস মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

৪. এতে থাকা ফাইটোনিট্রিয়েন্টস, ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ঠাণ্ডা-সর্দি ও নানা ধরনের সংক্রমণ রোধ করে।

কাঠালের উপকারিতা

লাল কাঠাল কলাম চারা
লাল কাঠাল কলাম চারা 

 কাঁঠাল স্বাস্থ্যকর খাবার। পাকা ও কাঁচা, কাঁঠাল দুইভাবেই খাওয়া যায়। অনেকেই কাঁঠালের এচোড় (কচি কাঁঠাল) ফ্রিজে জমিয়ে রেখে কয়েক মাস ধরে খেতে ভালোবাসেন। নানা ভাবে তরকারি হেসেবে খাওয়া হয় কাঁঠাল। কাঁচা কাঁঠাল স্বাদে আর গুণে কম যায় না। পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার বলেন, কাঁচা কাঁঠাল রোগব্যাধি উপশমে যেমন কার্যকর, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয় অনেক গুণ। এমনকি কাঁঠালের বিচিতেও আছে শর্করা। এটি চাইলে খেতে পারবেন তরকারি, হালুয়া বা ভর্তা হিসেবে। তবে এতে থাকে আঁশ, তাই বেশি খেলে হজমে গোলযোগ হতে পারে।’ প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে খাদ্য-আঁশ থাকে দুই গ্রাম, শর্করা ২৪ গ্রাম, চর্বি দশমিক ৩ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ২৯৭ আইইউ ও ভিটামিন-সি ৬ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের কাঁঠাল খাওয়ায় কিছুটা বিধিনিষেধ আছে। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাদের কাঁঠাল না খাওয়াই ভালো।

জেনে নিন কাঁঠালের কিছু পুষ্টিগুণ

কাঁঠালের বিচির প্রোটিন: কাঁঠালের বিচি গুঁড়ো করে সকালের জুস হিসেবে খেতে পারেন। কাঁঠালের বিচি ফেলনা নয়। এটি চাইলে খেতে পারবেন হালকা নাশতায়, সালাদ, তরকারি, হালুয়া বা ভর্তা হিসেবে। কাঁঠালের বিচিতে থাকা প্রোটিন মাংসপেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। বয়সের ছাপ দূর করে: কাঁঠাল আপনার বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করবে। মুখে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়। এটি ত্বকের জন্য ভালো। এর মধ্যকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ সৃষ্টিকারী মুক্ত উপাদানের (ফ্রি র‍্যাডিক্যালস) বিরুদ্ধে লড়াই করে। প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকায় হাড়ের ক্ষয় ঠেকাতে পারে কাঁঠাল। ভিটামিন এ, সি ও বি৬: কাঁঠালে আছে নানা রকম ভিটামিন। কাঁঠাল বহুগুণসম্পন্ন। কাঁঠালে থাকা ভিটামিন এ-র কল্যাণে মাথার চুল ভালো থাকে, দৃষ্টিশক্তি বাড়ে ও চোখের সমস্যা কমে। এতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, অ্যাজমা, কাশি, সর্দি ও ক্যানসারের মতো রোগ দূর করে। এর ভিটামিন বি৬ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়।  শর্করার উৎস: কাঁঠাল প্রায় কোনো কোলস্টেরল নাই বললেই চলে। তাই কাঁঠাল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। যেকোনো বয়সের মানুষ এটা খেতে পারেন। এটি শক্তির ভালো উৎস। এতে আছে ভালো শর্করা। নাশতা হিসেবে বা অন্য খাবারের বিকল্প হিসেবে কাঁঠাল খেতে পারেন। হজমশক্তি বাড়াতে: পেটের নানা রকম পীড়া থেকে মুক্তি দিতে পারে কাঁঠাল। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং অন্ত্রের নড়াচড়া বাড়াতে সাহায্য করে। এতে যে আঁশ থাকে, তা কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পেটের অম্লতা ও আলসার ঠেকাতে কাঁঠাল খেতে পারেন। ওজন কমায়: এতে চর্বির পরিমাণ খুব কম। তাই বেশি খেলেও ওজন বাড়ার শঙ্কা নেই। বরং পেট ভরে রেখে ওজন কমাতে সাহায্য করে কাঁঠাল।

এভোকাডোর উপকারিতা

 অ্যাভোক্যাডো কলাম চারা 

 অ্যাভোক্যাডো একটি চমৎকার ফল। বেশিরভাগ ফলের মধ্যে মূলত কার্বোহাইড্রেট থাকে তবে অ্যাভোক্যাডোতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের পরিমাণ বেশি।

অ্যাভোক্যাডো ফলের উপকারীতা অগণিত। এখানে অ্যাভোক্যাডোর ১২ টি উপকারীতা দেওয়া হলো যেগুলি বৈজ্ঞানিক গবেষণা দ্বারা সমর্থিত –

১. অবিশ্বাস্য রকমের পুষ্টিকর একটি ফল:

অ্যাভোক্যাডো গাছের ফল অ্যাভোক্যাডো যা  বৈজ্ঞানিকভাবে পার্সিয়া আমেরিকানা নামে পরিচিত। এই ফলটি তার উচ্চ পুষ্টির মানের জন্য যথেষ্ট মূল্যবান এবং এর অনন্য স্বাদের কারণে বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

আজকাল, অ্যাভোক্যাডো স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের কাছে অবিশ্বাস্যভাবে একটি জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হয়েছে। অবাক করা সব স্বাস্থ্যগুণের জন্য একে ‘সুপার ফুড’ বললেও ভূল হবেনা।

অ্যাভোক্যাডো আকার এবং রঙে বিভিন্ন রকমের হয় – নাশপাতি আকৃতির থেকে গোলাকার এবং সবুজ থেকে কালো পর্যন্ত। এগুলি ৮ আউন্স (২২০ গ্রাম) থেকে ৩ পাউন্ড (১.৪ কেজি) পর্যন্তও হতে পারে।আকৃতি পিয়ারের মতো এবং অ্যালিগেটরের মতো সবুজ রঙের ত্বকের জন্য একে “অ্যালিগেটর পিয়ার” নামেও ডাকা হয়।ফলের অভ্যন্তরীণ হলুদ-সবুজ মাংসল অংশ খাওয়া হয়, তবে খোসা এবং বীচি ফেলে দেওয়া হয়। এতে ২০ রকমের ভিটামিন এবং খনিজ সহ বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। মাত্র ৩.৫ আউন্স বা ১০০ গ্রাম অ্যাভোক্যাডোতে কতোটা পুষ্টি উপাদান রয়েছে চলুন সেটি জেনে আসি –

ভিটামিন কে: ২৬%

ফোলেট: ২০%

ভিটামিন সি: ১৭%

পটাশিয়াম: ১৪%

ভিটামিন বি-৫: ১৪%

ভিটামিন বি-৬: ১৩%

ভিটামিন ই: ১০%

এছাড়াও এতে স্বল্প পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, আয়রন, দস্তা, ফসফরাস এবং ভিটামিন এ, বি-১ (থায়ামিন), বি-২ (রিবোফ্লাভিন) এবং বি-৩ (নিয়াসিন) রয়েছে।

১৬০ ক্যালরিশক্তি, ২ গ্রাম প্রোটিন এবং ১৫ গ্রাম পরিমাণ স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এর সুন্দর সম্মীলন ঘটেছে এই ফলে। যদিও এটিতে ৯ গ্রাম কার্বস রয়েছে, যার মধ্যে ৭ টি ফাইবারযুক্ত এবং বাকি ২টি “নেট” কার্বস, যা এটিকে লো কার্বযুক্ত ফ্রুট হিসাবে পরিচিতি দেয়। অ্যাভোক্যাডোতে কোনো কোলেস্টেরল বা সোডিয়াম থাকে না এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকে।

২. কলার চেয়েও বেশি পটাশিয়াম সমৃদ্ধ:

পটাশিয়াম এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা বেশিরভাগ মানুষ পর্যাপ্ত পরিমাণে পায় না। এই পুষ্টি আপনার দেহের কোষগুলিতে বৈদ্যুতিক গ্রেডিয়েন্টগুলি বজায় রাখতে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্য সম্পাদনে সহায়তা করে।

অ্যাভোক্যাডোতে পটাশিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি। একটি ৩.৫-আউন্স (১০০-গ্রাম) কলাতে ১০% এবং অ্যাভোক্যাডোতে ১৪% পটাশিয়াম থাকে।

বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, উচ্চ পটাশিয়াম রক্তচাপ হ্রাস করে যা হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি ফেইলিউরের ঝুঁকি কমায়।

৩. হার্ট এর জন্য উপকারী মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ:

অ্যাভোক্যাডো একটি উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার। প্রকৃতপক্ষে, এতে থাকা ক্যালোরিগুলির ৭০% আসে ফ্যাট থেকে। তবে এগুলিতে কোনও চর্বি থাকে না।

অ্যাভোক্যাডোতে থাকা বেশিরভাগ ফ্যাট হলো অলিক অ্যাসিড (একটি মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড) যা অলিভ অয়েলের প্রধান উপাদান এবং এর বেশ কিছু উপকারীতা রয়েছে।

অলিক অ্যাসিড জ্বালাপোড়া কমাতে এবং ক্যান্সার কোষ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

অ্যাভোক্যাডোতে থাকা ফ্যাটগুলি অনেকটা তাপ বিরোধী, তাই অ্যাভোক্যাডো তেল রান্নার জন্য বেশ স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ।

৪. উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ:

অ্যাভোক্যাডোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ফাইবার হলো এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা ওজন হ্রাসে অবদান রাখে, রক্তে শর্করার স্পাইকগুলি হ্রাস করে এবং সাথে আরো অনেক রোগের ঝুঁকি কমায়।

দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় ফাইবারের মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে।

দ্রবণীয় ফাইবার আপনার অন্ত্রের বন্ধুত্বপূর্ণ অন্ত্র-ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য, যা শরীরের অনুকূল কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতি ৩.৫-আউন্স (১০০-গ্রাম) অ্যাভোক্যাডোতে ৭ গ্রাম ফাইবার থাকে, যা RDA এর ২৭%।

অ্যাভোক্যাডোতে থাকা প্রায় ২৫% ফাইবার দ্রবণীয় এবং ৭৫% অদ্রবণীয়।

৫. অ্যাভোক্যাডো কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড স্তরকে কমিয়ে দেয়:

বিশ্বে মৃত্যুর সর্বাধিক সাধারণ কারণ হৃদরোগ। কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডস, রক্তচাপ হৃদরোগের প্রধান কারণ। আটটি গবেষণায় এইসকল ঝুঁকির উপর অ্যাভোক্যাডোর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়েছে।

এই অধ্যয়নগুলিতে প্রমাণিত হয়েছে যে অ্যাভোক্যাডো –

কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

২০% পর্যন্ত রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড হ্রাস করে।

এলডিএল কোলেস্টেরল ২২% পর্যন্ত কমিয়ে আনে।

এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরল ১১% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

৬. নিয়মিত অ্যাভোক্যাডো গ্রহণকারীরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে থাকে:

একটি সমীক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে NHANES জরিপে অংশ নেওয়া ১৭,৫৬৭ জন অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়।

এই জরিপে অ্যাভোক্যাডো গ্রাহকরা অনেক স্বাস্থ্যবান ছিলেন। তাদের পুষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি ছিল এবং বিপাকীয় সিনড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেক ছিল, যা হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

যে সকল ব্যক্তি নিয়মিত অ্যাভোক্যাডো খেয়েছিলেন তাদের ওজন কম ছিল, বিএমআই কম ছিল এবং পেটের মেদও উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। তাদের এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের পরিমাণ ও ছিলো উচ্চতর।

যাইহোক, শুধুমাত্র অ্যাভোক্যাডো গ্রহণ ই যে এই ব্যাক্তিগণের ভাল স্বাস্থ্যের একমাত্র কারণ এমন কোনো গ্যারান্টি কিন্তু নেই।

৭. অ্যাভোক্যাডোর মধ্যকার ফ্যাট আপনার পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে:

যখন পুষ্টির কথা আসে তখন গ্রহণের বিষয়টি কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনাকে এই পুষ্টিগুলি শোষণেও সক্ষম হতে হবে – এগুলি পাচনতন্ত্র থেকে শরীরে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে সেগুলি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

কিছু পুষ্টিগুণ ফ্যাট-দ্রবণীয় অর্থাৎ ব্যবহারের জন্য তাদের ফ্যাটের সাথে একত্রিত করা প্রয়োজন।

অ্যাভোক্যাডোতে ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই, কে এবং পাশাপাশি ক্যারোটিনয়েডের মতো এন্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, সালাদ বা রান্নায় অ্যাভোক্যাডো বা অ্যাভোক্যাডো তেল যোগ করা হলে এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শোষণকে ২.৬- থেকে ১৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে।

সুতরাং, অ্যাভোক্যাডো কেবল উচ্চ পুষ্টিকরই নয়, এটি আপনার গ্রহনকৃত অন্যান্য সকল খাবারের পুষ্টির মান চমৎকারভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আপনি যখন শুধু ভেজিটেবল খান, তখন স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অন্তর্ভুক্ত করার একটি দারুণ উপায় অ্যাভোক্যাডো।

৮. অ্যাভোক্যাডোতে শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা চোখকে রাখে সুরক্ষিত:

অ্যাভোক্যাডো কেবল অন্যান্য খাবার থেকে এন্টিঅক্সিডেন্ট শোষণের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে না, এটি উচ্চ মাত্রায় এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যারোটিনয়েডস লুটেইন এবং জেক্সানথিন, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অবিশ্বাস্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স্কদের ছানি এবং ম্যাকুলার অবক্ষয় একটি সাধারণ ব্যাপার, যেগুলি প্রতিরোধে অ্যাভোক্যাডো সহায়তা করতে পারে।

অতএব, অ্যাভোক্যাডো খাওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে আপনার চোখ থাকবে সুরক্ষিত।

৯. অ্যাভোকাডো ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে:

ক্যান্সার চিকিৎসা এবং প্রতিরোধে অ্যাভোক্যাডো যথেষ্ট উপকারী।

টেস্ট-টিউব সমীক্ষায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, এটি মানব লিম্ফোসাইটে কেমোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হ্রাস করতে সহায়তা করতে পারে।

অ্যাভোক্যাডো প্রোস্টেট ক্যান্সার কোষগুলির বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

 মনে রাখবেন যে, এই সমীক্ষাগুলি শুধুমাত্র কিছু বিচ্ছিন্ন কোষগুলিতে করা হয়েছিল।

১০. অ্যাভোক্যাডো এক্সট্র্যাক্ট বাতরোগ থেকে মুক্তিতে সহায়তাকারী:

আর্থ্রাইটিস পশ্চিমা দেশগুলিতে একটি সাধারণ ব্যাধি। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা যা মানুষের সারা জীবন ধরে থাকে।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে অ্যাভোক্যাডো এবং সয়াবিন তেল এক্সট্র্যাক্ট অস্টিওআর্থারাইটিস হ্রাস করতে পারে।

১১. ওজন কমাতে দারুণ কাজ করে অ্যাভোক্যাডো:

অ্যাভোক্যাডো হলো ওজন কমানোর উপযোগী খাবার।

একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, খাবারের সাথে অ্যাভোক্যাডো খেলে ২৩% বেশি তৃপ্তি পাওয়া যায় এবং যারা এই ফলটি খান না তাদের তুলনায় পরবর্তী ৫ ঘন্টায় তাদের খাওয়ার ইচ্ছা ২৮% কম হয়।

সুতরাং আপনার ডায়েটে অ্যাভোক্যাডো অন্তর্ভুক্ত করলে এটি স্বাভাবিকভাবেই আপনাকে কম ক্যালোরি খেতে সহায়তা করবে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত করবে।

অ্যাভোক্যাডো উচ্চ ফাইবার এবং নিম্ন কার্বস বিশিষ্ট হয়ে থাকে, যা ওজন হ্রাসের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।

১২. সুস্বাদু অ্যাভোকাডো আপনার ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে খুব সহজেই:

অ্যাভোক্যাডো শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর নয়, এগুলি অবিশ্বাস্যরূপে সুস্বাদু এবং বিভিন্ন ধরণের খাবারের সাথেও খাওয়া যায়।

আপনি এগুলি সালাদ এবং বিভিন্ন রেসিপিতে যুক্ত করতে পারেন বা চামচ দিয়ে কেবল স্কুপ করেও খেতে পারেন।

এর একটি ক্রিমি ও চর্বিযুক্ত গঠন রয়েছে যা অন্যান্য উপাদানগুলির সাথে ভালভাবে মিশ্রিত হয়।

অ্যাভোক্যাডো পাকতে কিছুটা সময় নেয় এবং পাকলে কিছুটা নরম ধাচের হয়।

সর্বপরি, অ্যাভোক্যাডো হলো পুষ্টিতে ভরপুর একটি চমৎকার ফল যা আধুনিক ডায়েটের সকল ধরনের পুষ্টির অভাব পূরণ করতে সহায়তা করে। এটি খেতে যেমন দারুণ সুস্বাদু, তেমনই ওজন কমাতে বন্ধুত্বপূর্ণ ও হৃদপিণ্ডের জন্য বেশ স্বাস্থ্যকর।


লাবাং